খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্রভিত্তিক আধুনিক খামার গড়ে তুলছে চীন। দেশটির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে ও স্থলজ কৃষিজমির ওপর চাপ কমাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সমুদ্রের বিশাল জলরাশিকে কাজে লাগিয়ে মাছ, শৈবাল ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষ করা হচ্ছে এসব খামারে, যা প্রোটিনের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাম্প্রতিককালে বহুমুখী খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় জোর দিয়েছে চীন সরকার। যার অংশ হিসেবেই গভীর সমুদ্র ও দূর সমুদ্রে মাছ চাষ এবং আধুনিক মেরিন র্যাঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ‘নীল শস্যভাণ্ডার’খ্যাত এ খামারগুলো খাদ্য সরবরাহে নিয়ে আসছে বৈচিত্র্য। আসছে নতুন বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার।
এরই মধ্যে চীন ১৮০টির বেশি জাতীয় পর্যায়ের মেরিন র্যাঞ্চ তৈরি করেছে। এর মধ্যে শানতোং প্রদেশে রয়েছে ৭১টি। ২০২৪ সালে দক্ষিণ চীনের কুয়াংতোং প্রদেশের শানওয়েই শহর ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগে তৈরি করা হয় আটটি মেরিন র্যাঞ্চ বা সামুদ্রিক খামার।
প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব র্যাঞ্চে স্বয়ংক্রিয় খাদ্য প্রয়োগ ও পানির নিচের ইমেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে রূপান্তর ঘটেছে মাছ চাষ শিল্পে। ইয়েনথাইয়ের উপকূল থেকে ৪২ নটিক্যাল মাইল দূরে বিশাল আটটি খাঁচায় মাছ চাষ করছেন লিউ ইউলে। প্রতিটি খাঁচায় ৯৪ হাজার ঘনমিটার পানি ধরে। এতে বছরে এক হাজার টন মাছ বড় করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির ফলে একটি খাঁচার জন্য চারজন কর্মীই যথেষ্ট।
নতুন ব্যবসায়িক সুযোগও তৈরি করছে মেরিন র্যাঞ্চগুলো। ইয়ানথাইয়ের লাইশান উপকূলে এসব খামারে রাখা হয়েছে পর্যটন সুবিধা। পর্যটকরা সেখানে ভিআর-এআর প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্রের অভিজ্ঞতা নিতে পারছেন, মাছ ধরতে পারছেন ও সাগর দর্শন করতে পারছেন। র্যাঞ্চটির ৭১টি সমুদ্র দেখা যায় এমন হোটেল রুম ও টাটকা সামুদ্রিক খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
চীনের সরকার এ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। দেশটির লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে সামুদ্রিক খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করা। এছাড়া এ উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমুদ্র অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্থলজ কৃষির ওপর চাপ বাড়ছে। তাই সমুদ্রভিত্তিক খামার একটি টেকসই সমাধান হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট মোকাবেলায় চীনের এ পদক্ষেপ একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অন্যান্য দেশও সমুদ্রভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করে তাদের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।